Skip to main content

Academic learning of Calligraphy in Bangladesh

 ক্যালিগ্রাফির শাস্ত্রীয় শিক্ষা 

মোহাম্মদ আবদুর রহীম  

বাংলাদেশে ক্যালিগ্রাফি শেখানোর যেসব জায়গা বা প্রতিষ্ঠান আছে, সেগুলোর প্রায় সব শিক্ষকই হচ্ছেন স্বশিক্ষিত।  ফলে ক্যালিগ্রাফির আসল শিক্ষা সেখানে পাওয়া মুশ্কিল। আর সনদবিহীন উস্তাদের কাছে তা আশা করা যায় না।

বাংলাদেশে আমরা ক্যালিগ্রাফি শিক্ষাকে পরিপূর্ণ শাস্ত্রীয় ধারায় প্রতিষ্ঠার প্রয়াস অব্যাহত রেখেছি।  এখানে প্রাথমিক পর্যায়ের কয়েকটি বিষয় নিয়ে কথা বলবো ইনশাআল্লাহ।  আপনারা এবিদ্যার মৌলিক কয়েকটি বিষয় জানলে পরবর্তী পর্যায়ে কাজ করতে সুবিধা পাবেন।

ক্যালিগ্রাফির হরফের প্রথম যে বিষয়টি শেখানো হয়। সেটা হলো মুফরাদাত। এই মুফরাদাত ক্লাসগুলোতে একক হরফ কিভাবে ক্যালিগ্রাফির কলম দিয়ে লেখা হয়, তা হাতেকলমে শেখানোর সময় চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে শেখানো হয়। 

এক. কত্-এর কৌণিক অবস্থান, সংক্ষেপে একে আমরা এঙ্গেল (যাওয়িয়াহ), ডিগ্রি (দারাজাহ) বলি। একটি হরফ লিখতে হরফের বিভিন্ন অংশে কত্-এর এঙ্গেলের ডিগ্রি পরিবর্তন হয়।



দুই. মোশন বা ইকতিরাহ। একটা হরফ লিখতে কলমের গতি কোন দিকে যাবে তাকে তীর চিহ্ন দিয়ে দেখানো হয়। একে আমরা বলি ইকতিরাহ বা মোশন।

তিন. কত্ বা পরিমাপের নোকতা। একটা হরফ লিখতে হরফের র'স বা মাথা, জিসিম বা শরীরের মাপ দৈর্ঘে প্রস্থে কতটুকু হবে তা কত্ বা পরিমাপের নোকতা দিয়ে দেখানো হয়।

চার. আননিসবাতুজ জাহাবিয়াহ বা গোলডেন রেসিও। হরফের বিভিন্ন অংশের সাথে অপর অংশের একটি আনুপাতিক সম্পর্ক থাকে। সঠিক ভাবে হরফ বা ক্যালিগ্রাফি করতে হলে এটার প্রয়োগ ছাড়া সৌন্দর্য ফুটে ওঠে না। আমরা এটা 'উল্টা তিন' লিখে দেখাই।




এছাড়া মুফরাদাত ক্লাসগুলোতে সংশ্লিষ্ট  আরও অনেক বিষয়ে শেখানো হয়। আশাকরি ক্যালিগ্রাফি শিক্ষায় আমরা আরও সুন্দর ও আনন্দময় বিষয় জানতে ও প্রয়োগের মাধ্যমে সফলতার দিকে এগিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।


হ্যাপি ক্যালিগ্রাফি লারনিং!! 


ছবি- আমাদের ক্যালিগ্রাফির ক্লাসের মুফরাদাত দরস ও নেট থেকে সংগৃহীত।

Comments

Popular posts from this blog

বাংলা ক্যালিগ্রাফি : অনুভব ও শৈলী

-মোহাম্মদ আবদুর রহীম মানুষ জীবনযাপনে বাহ্যিক প্রয়োজন পূরণের পরও মানসিক আনন্দলাভ বা আত্মপিয়াস মেটাতে কিছু দেখতে, শুনতে কিংবা ছুয়ে দেখতে চায়। তার সংস্কৃতির মধ্যে নিজকে প্রকাশ করতে কিংবা সৃজনশীল কিছু করে আনন্দ পেতে চায় এবং অন্যকে আনন্দ দিতে তার ইচ্ছে জাগে। সুতরাং বলা যায়, কোন জাতির সংস্কৃতির মধ্যে যে সৃজনশীল ও প্রতিভার পরিচয় আমরা দেখতে পাই, সেটাই শিল্পকলা।শিল্পকলার অতি প্রাচীন একটি শাখা হচ্ছে ক্যালিগ্রাফি।ক্যালিগ্রাফি শব্দটা ইংরেজি । এটা গ্রীক শব্দ ক্যালিগ্রাফিয়া থেকে এসেছে । গ্রীক শব্দ ক্যালোস এবং গ্রাফেইনের মিলিত রূপ ক্যালিগ্রাফিয়া । ক্যালোস = সুন্দর , আর গ্রাফেইন = লেখা । সুতরাং   ক্যালিগ্রাফির পরিচয় এভাবে দেয়া যেতে পারে -   হরফ বা টেকসট ব্যবহার করে চমৎকার লেখন শিল্পকে ক্যালিগ্রাফি বলে । বর্তমানে , এই আর্ট ফর্মকে বিভিন্ন দেশ , ভাষা এবং ধর্মের লোকেরা আনন্দচিত্তে গ্রহণ এবং চর্চা করে চলেছেন । পৃথিবীতে বিভিন্ন ভাষার হরফে ক্যালিগ্রাফি করা হয়েছে। আরবি, ইংরেজি, চীনা, জাপানী প্রভৃতি ভাষার হরফের ক্যালিগ্রাফি মানুষকে মোহিত ও আনন্দিত

বাংলা ভূখন্ডে ক্যালিগ্রাফির পদযাত্রায় শিলালিপির ভূমিকা

Muhaqqaq style -মোহাম্মদ আবদুর রহীম ক্যালিগ্রাফিকে শুধুমাত্র 'হাতের লেখা' বলে পরিচয় দিলে অসম্পূর্ণ থেকে যায় এর অর্থ। 'সুন্দর হাতের লেখা' বললে আক্ষরিক অর্থ বলা হয়। আরব সিভিলাইজেশন প্রবন্ধে বলা হয়েছে- আরবি লিপিকলা প্রবহমান নকশা এবং জটিল জ্যামিতিক ডিজাইনের সমন্বয়। এই নান্দনিক লিপিকলা সম্পর্কে আলেকজান্দ্রিয়ার দার্শনিক ও গণিতের জনক ইউক্লিদ বলেন, "একটি 'আধ্যাত্মিক কৌশল' হিসেবে ক্যালিগ্রাফিকে গত ১৩শত বছর ধরে আরবদের কলম শুধু বিশুদ্ধ এবং সমৃদ্ধ করেছে।" আসলে ক্যালিগ্রাফি হচ্ছে লিপিকলা বা লিপি দিয়ে যে শিল্পকর্ম করা হয়। বাংলা ভূখন্ডে প্রাচীন কাল থেকে যারা শাসন করেছেন, তারা সুবিধামত একটি ভাষাকে রাজভাষা করেছেন এবং নথিপত্রে তা ব্যবহার করেছেন, জনসাধারণের সাথে সংযোগের ক্ষেত্রে এভাষায় জনহীতকর কাজের পরিচিতি ফলক বানিয়েছেন। প্রাচীনকাল থেকে এ অঞ্চলে পাথরে, তাম্র ফলকে এর নিদর্শন দেখা যায়। কাগজ বা টেকসইবিহীন মাধ্যমে এই নিদর্শন পাওয়া দুষ্কর। একটা মজার বিষয় হচ্ছে, ক্যালিগ্রাফির সত্যিকার পদযাত্রা নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে প্রাচীন নিদর্শন খুজতে গিয়ে ১২০৬ সালে (১

Sulus Lipisaili (khatt al-sulus) PDF book

   Sulus Lipisaili book PDF